উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২/০৬/২০২৬ ৯:৫৯ এএম , আপডেট: ০২/০৬/২০২৬ ১২:৫৪ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় গবাদি পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। কিছু রোহিঙ্গা একাধিক গরু ও মহিষ কোরবানি দিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

ক্যাম্পের বিভিন্ন সূত্র বলছে, যারা মাংস পেয়েছে তাদের কেউ কেউ কয়েক কেজি করে মাংস পেয়েছে। আবার এমন অসংখ্য পরিবার রয়েছে যারা নিজেরা কোরবানি দিতে পারেনি, এমনকি অন্যের কাছ থেকেও কোনো মাংস পায়নি। রোহিঙ্গা সূত্রগুলোর দাবি, এবারের কোরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিলেন ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন প্রভাবশালী রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে কেউ পাঁচটি, কেউ ১০টি, আবার কেউ ২০টি পর্যন্ত পশু কোরবানি দিয়েছেন।
উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৌলভি মোহাম্মদ নূর এবারের ঈদে ২০টি গরু ও মহিষ কোরবানি দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের একাংশের ভাষ্য, মৌলভি নূর দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। মূলত সিন্ডিকেটের সদস্য, ইয়াবা বহনকারী, পাচারকারী ও সহযোগীদের জন্যই তিনি এত বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি দিয়েছেন।

অন্যদিকে বালুখালী ক্যাম্পের দুই সহোদর ইয়াবা কারবারির কোরবানির বিষয়টিও ব্যাপকভাবে চাউর হয়েছে।

বালুখালী ৮ ইস্ট ক্যাম্পের আবুল ফয়েজ তাঁর অনুসারীদের জন্য ১০টি পশু কোরবানি দিয়েছেন। একই ক্যাম্পের আরেক বাসিন্দা আবুল ফয়েজের ভাই আবুল কাশেম পাঁচটি গরু এবং তিনটি মহিষ কোরবানি দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের মতে, আবুল কাশেমের সঙ্গে ইয়াবা কারবারের ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং তাদের জন্যই এ আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের ডব্লিউডি-৪ এলাকার বাসিন্দা জুবায়েরও আলোচনায় রয়েছেন। সূত্র বলছে, তাঁর পাঁচটি পৃথক গ্রুপ রয়েছে।
প্রতিটি গ্রুপের জন্য প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি করে মোট পাঁচটি মহিষ কোরবানির জন্য ক্রয় করা হয়।
তবে সব আলাপ-আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নেতা শেখ সাহেব। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি ১০০টি গরু আনেন ক্যাম্পে। এ মাংস আরসাসংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বলে সাধারণ রোহিঙ্গারা জানায়। এদিকে ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত এলাকা উখিয়া ও টেকনাফের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারাও (হোস্ট কমিউনিটি) কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) প্রদত্ত সহায়তার ২৫ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়ার কথা তাদের।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় (আরআরআরসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদুল আজহায় ৩৪টি দেশি-বিদেশি এনজিও রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক লাখ ৯৪ হাজার ৭০৯ কেজি মাংস বিতরণ করেছে। এনজিওগুলোর তালিকা অনুযায়ী ৩৩টি ক্যাম্পের মধ্যে শুধু ২২টি ক্যাম্পে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪৮ হাজার কেজি মাংস স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করার কথা। কিন্তু উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র তিন হাজার ৪২০ কেজি মাংস।

অন্যদিকে সাদাকাটাসি নামের তুর্কি একটি এনজিওর জবাই করা গরুর মাংস বিতরণ নিয়েও ঘটেছে তুলকালাম কাণ্ড। এনজিওটি ৭০টি গরু বিতরণ করেছে ক্যাম্পে। এর মধ্যে পাঁচটি জবাই করা গরু উখিয়ার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল আজহার দিন বিকেলে বিতরণ করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘক্ষণ আগে জবাইয়ের কারণে গরুগুলো ফুলে পচন ধরায় তিনি গরু নিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ বিষয়ে সাদাকাটাসি এনজিওর কর্মকর্তা তারেকুল আলম জবাই করা গরুতে পচন ধরার কথা অস্বীকার করেছেন।

তথ্যসূত্র, কালেরকন্ঠ

পাঠকের মতামত

 

রোহিঙ্গা খাদ্য কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপির চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘মাঈশা এন্টারপ্রাইজ’ এর হরিলুট!

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে জেনারেল ফুড এসিস্ট্যান্ট (জিএফএ) কার্যক্রমের আওতায় মানবিক ...

জাইকার অর্থায়নের ফিলেপ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়িত ফিলেপ (ফরেন এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ...